দেশি মুরগি রোগ-প্রতিরোধী ও আঙিনায় ঘুরে খেয়ে বাঁচে, তাই কম খরচে শুরু করা যায়। সাফল্যের চাবি: শুকনো ঘর, পরিষ্কার পানি আর নিয়মিত টিকা।
১. ঘর
- উঁচু ও শুকনো মেঝে; মাটি থেকে কিছুটা উপরে বানান যাতে পানি না ঢোকে।
- বাতাস চলাচলের জানালা, কিন্তু সরাসরি ঠান্ডা বাতাস নয়।
- রাতে বসার জন্য আড়কাঠ; ডিম পাড়ার জন্য শান্ত কোণে বাক্স (প্রতি ৪–৫টি মুরগিতে একটি)।
- ঘরে ভিড় না হয়—প্রতি মুরগির জন্য অন্তত ২–৩ বর্গফুট এবং আলাদা চরার জায়গা রাখুন।
- দরজা-জানালায় শক্ত জাল; শিয়াল, বেজি, সাপ, বিড়াল ও ইঁদুর ঠেকাতে রাতে ঘর বন্ধ রাখুন।
২. খাবার ও পানি
- ভাতের খুদ, চালের কুঁড়া, ভুট্টা-গমের গুঁড়ো, শাকপাতা ও রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট।
- প্রোটিনের জন্য পোকামাকড় ও শামুক চরে খেতে দিন।
- পরিষ্কার পানি সবসময়; খোলা থালায় নয়, ঢাকা বা ঝোলানো পাত্রে।
- খাবারের পাত্র ঝুলিয়ে রাখুন যাতে ইঁদুর ও নোংরা কম হয়।
৩. স্বাস্থ্য
- ঘর ও পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন; বিছানা ভিজলে বদলান।
- রানীক্ষেত প্রভৃতি রোগের টিকা কবে ও কীভাবে দেবেন তা স্থানীয় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে জেনে নিন।
- অসুস্থ মুরগি আলাদা করুন।
- হঠাৎ অনেক মুরগি মরলে বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ অফিসে জানান; পাখি ধরার পর সাবান দিয়ে হাত ধুন।
৪. ডিম ও সার
মুরগি সাধারণত প্রায় ২০ সপ্তাহে ডিম পাড়া শুরু করে। প্রতিদিন ডিম তুলুন ও ঠান্ডা, শুকনো জায়গায় রাখুন। মুরগির বিষ্ঠা কম্পোস্টে মিশিয়ে পচার পর ব্যবহার করুন; কাঁচা বিষ্ঠা চারায় দেবেন না।